কী ভাবছেন বারাসতের নেতৃত্বরা

Published on : 15th March 2026

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বারাসত ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের অবস্থান, প্রত্যাশা ও জনমতের ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা বেড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। এই প্রেক্ষাপটে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব নিজেদের মতামত ও কৌশল তুলে ধরেছেন।

কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তাপস মজুমদার দুই দফায় ভোটের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এবার কংগ্রেস এককভাবে লড়ছে, তাই তাদের ফলাফল আগের তুলনায় আরও ভালো হতে পারে। তিনি মনে করেন এখনও অনেক মানুষ কংগ্রেসের উপর আস্থা রাখেন এবং দলটি পুরনো অবস্থানে ফিরে আসতে পারে।

ফরোয়ার্ড ব্লকের জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় জানান, দুই দফায় ভোটের দাবি প্রথমে তারাই তুলেছিলেন। পাশাপাশি ৬০ লক্ষ ভোটারের বিবেচনাধীন বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উপর আস্থা হারাচ্ছেন এবং বামফ্রন্টের প্রত্যাবর্তন চান।

বিজেপির জেলা সভাপতি রাজীব পোদ্দার দুই দফায় ভোট হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চাইছেন এবং বিজেপিকে বিকল্প হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচনে বিজেপির জয় সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

অন্যদিকে বারাসত পুরসভার পুরপ্রধান তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুনীল মুখার্জী বলেন, ভোট কয় দফায় হচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, জয়ের ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির ফলই ভোটে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি দাবি করেন।

সব মিলিয়ে, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার, দেওয়াল লিখন ও প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। তবে শেষ কথা বলবেন সাধারণ মানুষ—এই বিষয়ে সব দলের নেতৃত্বই একমত।

এছাড়াও বিভিন্ন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। কেউ বর্তমান সরকারের কাজকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ বেকারত্ব, অর্থনীতি, সামাজিক বিভাজন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সবশেষে বলা যায়, এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়—এটি বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব, যার রায় দেবে জনগণ।